No icon

AMI JAJABOR

জীবনযুদ্ধে একটি মেয়ের লড়াইয়ের গল্পগাঁথায় 'আমি যাযাবর'

বাবা-মাহীনা ২৫বছর বয়সী টিয়া পরিচারিকার কাজ করে বাসা বাড়িতে। এমনসময় হঠাৎ করে তাঁর  কাজ যায় চলে। সহায় সম্বলহীন টিয়া ভাবতে থাকে এবার কি করে চলবে তাঁর?কারণ সে তো লেখাপড়া জানে না। তাই সে আবারও কাজের উদ্দেশ্য বেরিয়ে পড়ে।ঠিক তখনই সে একটি বাড়ি দেখতে পায় এবং সেখানে পরিচারিকার কাজ করতে শুরু করে সহজ সরল টিয়া। সেই বাড়িতে ভালোবাসায় ,স্নেহে আদরে দিন চলে টিয়ার। কিন্তু  সে বাড়িতে দেখা দেয় অঘটন। ফলে টিয়াকে ভুল বুঝতে শুরু করে। দিশেহারা টিয়া মনে মনে ভাবতে থাকে যে তাঁর জীবনে সুখের লিখন লেখাই হয়নি। অতঃপর অজানার উদ্দেশ্য সেই বাড়ি ছেড়ে চলে যায় এবং এই সহজ সরল টিয়া বাড়ির সমস্যার কথা মনে রেখে তাঁর জমানো টাকা সেই পরিবারের জন্য রেখে আসে। কর্তব্যে শুধু নয় ভালোবাসার নজির রাখলেও আসলে সে একজন যাযাবর। এমনই গল্পের মোড়ক নিয়ে সোমবার কলকাতায় অবস্থিত তপন থিয়েটারে হয়ে গেল পরিচালক শ্রী সুদীপ নাগ পরিচালিত বাংলা ছবি 'আমি যাযাবর'-এর স্ক্রিনিং। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পরিচালক রাজা সেন ,অভিনেতা রাহুল বর্মন, অভিনেত্রী এবং প্রযোজক কিয়া দেবদাস , পরিচালক শ্রী সুদীপ নাগ সহ অন্যান্য বিশিষ্টজনেরা। 

'আমি যাযাবর' -ছবির মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন কিয়া দেবদাস এবং গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন পাপিয়া অধিকারী। এছাড়াও অভিনয় করেছেন শান্তুনু মুখার্জী, শ্রীধর, পার্থ সারথি কুমার । কাহিনী লিখেছেন কিয়া দেবদাস স্বয়ং। সিনেমাটোগ্রাফির দায়িত্ব সামলেছেন সোমনাথ। সংগীত পরিচালনায় এবং গানের কন্ঠ দিয়েছেন শান্তুনু ঘোষ। ছবিতে ব্যবহৃত হয়েছে একটি গান এবং শ্যুটিং হয়েছে নর্থবেঙ্গল, দার্জিলিং সহ বিভিন্ন জায়গায়। 

প্রায় দেড় ঘন্টার এই ছবিতে রয়েছে একটি মেয়ের জীবনযুদ্ধে  লড়াই করে বেঁচে থাকারগল্প। আমরা যতই প্রগতিশীল যুগে  এগিয়ে চলি না কেন আজও খুব সহজেই একটি মেয়েকে অপয়া অপবাদে নামাঙ্কিত করতে দ্বিধা বোধ হয় না। কোন কিছু বিশদে না পৌঁছে খুব সহজেই একজনের প্রতি ধারণা জন্মায় যা অনেকসময় হয়ে ওঠে ভ্রান্ত। টিয়ার জীবনের প্রতি পর্যায় দেখা দেয় অবহেলার ছবি। ভালোবাসার কাঙাল টিয়া আসলে বলা ভালো ভালোবাসাহীণ যাযাবর। ছবির কাহিনী অসাধারণ হলেও অভিনয়ের ক্ষেত্রে আরো যত্নশীল হওয়া প্রয়োজন ছিল। অন্যদিকে ছবির ভিসুয়ালাইজ্ড খুবই ভালো।

এদিন ছবি সম্পর্কে অভিনেত্রী তথা প্রযোজক কিয়া দেবদাস জানান, "প্রচুর স্ট্রাগল করে আমার এই স্বপ্ন বাস্তবে পরিণত হল ,আমি খুবই খুশি। আশা করব,দর্শকদের খুবই ভালো লাগবে।আমার বিশ্বাস, এই ধরণের কন্টেন্ট ইন্ডাস্ট্রির মোড় ঘুরিয়ে দেবে।" 

'আমি যাযাবর'-ছবির স্ক্রিনিং সম্পর্কে পরিচালক শ্রী সুদীপ নাগ জানান, "কখনো কখনো পরিস্থিতির পরিপেক্ষিতে আমরা সবাই যাযাবর। এটি একটি পরিবারিক ছবি। ছবির মাধ্যমে আমি সমাজকে একটা ম্যাসেজ দিতে চেয়েছি।"

এদিন ছবি সম্পর্কে অভিনেতা রাহুল বর্মন জানান, "ছবির বিষয়বস্তু সামাজিকভাবে প্রাসঙ্গিক। কন্টেন্ট খুবই ভালো। আমরা নতুনত্বে এগোলেও আমাদের সেই পুরোনো  দৃঢ় বিশ্বাস এখন রয়েগেছে তাই আজও পরিবারের মধ্যে কোন দুর্ঘটনা হলে বাড়ির মেয়েটাকে দোষীস্যাবস্ত করতে পারলে আমরা খুবই খুশি হই।"

সবশেষে বলাই যায়, জীবনে চলার পথে এমনই অসংখ্য অসহায়  টিয়ার কাহিনীর প্রতিচ্ছবি ' আমি যাযাবর '।

Comment