No icon

Newzealand

কোহাই,উকুলেইলে আর সিলভার ফার্নের দেশে

-নিউজিল্যান্ডের কবি ডক ড্রামহেলারের সাথে এক সন্ধ্যা

ভাষা কখনো কবিতা লেখার ব্যাপারে বিশেষ কোনো অন্তরায় হতে পারেনা। বিশ্বব্যাপি কবিতার কলেবর রোজই কোনো না কোনোভাবে বিস্তার হয়ে চলেছে গ্রাম থেকে গ্রামে, শহর থেকে শহরে, দেশ থেকে দেশে, মহাদেশ থেকে আরেক মহাদেশে | আমরা ল্যাটিন আমেরিকান, পর্তুগিজ, ফ্রেঞ্চ, জার্মান, রাশিয়ান কবিদের লেখা আগেও অনেক পড়েছি, আর এইবারে পুজোর প্রাক্কালে, তিলোত্তমাকে এক কবিতা-সন্ধ্যা  উপহার দিয়ে গেলেন যিনি, তিনি হলেন সুদূর নিউজিল্যান্ড থেকে আসা কবি ডক ড্রামহেলার। ডক একজন সৃজনশীল কবি, গায়ক, থিয়েটার-কর্মী, নাট্যকার, ক্যাটালিস্ট কবিতা-পত্রিকার (নিউজিল্যান্ডের) সম্পাদক এবং ক্রিয়েটিভ রাইটিংয়ের শিক্ষক| সম্প্রতি উপস্থিত ছিলেন কলকাতার দেবভাষা বুকস্টোর-কাম-গ্যালারিতে তাঁর বেশ কিছু কবিতা এবং গানের সমাহার নিয়ে। সাহিত্য একাডেমির আমন্ত্রণে দিল্লিতে কবিতাপাঠ করে গেলেও, কলকাতায় প্রাক-শারোদোৎসবে এক কবিতা-সন্ধ্যা কাটানো এই প্রথম। 'যাপনচিত্র' প্রকাশনার পক্ষ থেকে কবি প্রবাল কুমার বসু এবং বর্ণালী রায় কর্তৃক আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে কলকাতা থেকে বিভিন্ন ভাষার কবিরা তাঁদের স্বরচিত ইংরেজি এবং অনুবাদ কবিতা পড়েন ঐদিন সন্ধ্যায়। ডকের হাইকু এবং প্যালিনড্রোমসগুলির মধ্যে জাতি, হিংসা, মানবিক প্রবৃত্তি, ত্যাগ, অনুপ্রেরণা সবেরই প্রাবল্য রয়েছে। ২০০৯ সালে আয়োজিত ৫ম ওয়ার্ল্ড হাইকু এসোসিয়েশন কনফারেন্স এবং হাভানা ইন্টারন্যাশনাল পোয়েট্রি ফেস্টিভ্যালে আলোচিত বেশ কিছু কবিতা তিনি ভারতীয় কবিদের কাছে উপস্থিত করেন|  বিভিন্ন দেশে মানুষের অবস্থানের কথা,  দুর্যোগের কথা, সুনামি, ঘূর্ণাবর্ত, ভূমিকম্প কিভাবে তাঁর সামনে মানুষের দুর্যোগ তুলে ধরেছে বারংবার, এবং তাঁর কবিতায় আধুনিক কবি ইয়েটসের সেই 'সেকেন্ড কামিং' এর স্বর ভীষণভাবে উচ্চারিত তা যেন তিনি না বলেও বুঝিয়ে দেন। মাওরি  ভাষায় ডকের গান শুধু ঘুমপাড়ানিয়া গান হয়ে প্রতিধ্বনিত হচ্ছিলো শহরের আনাচে কানাচে, বুনে চলেছিল এক কাব্যিক নকশিকাঁথা ডকের জীবনের নিত্যনৈমিত্যিক অভিজ্ঞতার চিন্তাভাবনা দিয়ে। একাধারে তিনি বাগান করেন আবার নাটকের মঞ্চে নিজের দেশের  সংস্কৃতি তুলে ধরেন পুতুলনাচ বা পাপেট থিয়েটারের মাধ্যমে তাও জানিয়ে দেন নির্দ্বিধায়। উপস্থিত সকল কবিদের উৎসাহে স্বল্প পরিসরে হলেও, দিয়ে চলেন একের পর এক প্রশ্নের উত্তর। ভারতীয় কবি,অধ্যাপক এবং অনুবাদকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শেখর বন্দ্যোপাধ্যায়, বিকাশ গণ চৌধুরী, পার্থজিৎ চন্দ, শ্রীতন্বী চক্রবর্তী,সংহিতা বন্দ্যোপাধ্যায়,  গৌরব চক্রবর্তী, সৈকত রূপসায়র সরকার, সায়ন রায় এবং আরো অনেকে। অনুষ্ঠান সমাপ্ত হয় মৈত্রেয়ী বণিক চক্রবর্তীর কণ্ঠে একটি রবীন্দ্রসংগীত উপস্থাপনার মধ্যে দিয়ে। ডক থেকে যান শ্রোতাদের মনে, তাঁর ক্রুসেড, বিড়ালের 'মিয়াঁও', রিপাবলিক এবং হালকা স্যাটায়ারের ককটেল নিয়ে, আবার কলকাতায় ফিরে আসার জন্যে, এরকমই ঠিক এক বৃষ্টিস্নাত সন্ধ্যায়।

প্রতিবেদক- শ্রীতন্বী চক্রবর্তী

ফটো: সৈকত রূপসায়র সরকার

Comment