No icon

PADMINI

চলচ্চিত্র আঙিনায় ছবির মাধ্যমে সমাজে বার্তা প্রদর্শক পদ্মিনি দত্ত শর্মা

আমাদের জীবনযুদ্ধে সম্পর্কের বাঁধনগুলো ক্রমশ হয়ে পড়ছে ফিকে। এই ইঁদুর দৌড়ের প্রতিটি গতিপথে কাছের মানুষকে ভালোবেসে আগলে রাখার বাসনা হয়ে পড়ছে ক্ষীণ। শুধুমাত্র স্বামী- স্ত্রী, কিংবা প্রেমিক- প্রেমিকা নন এই ফাটলের প্রতিচ্ছবি  বাবা মা- সন্তানদের সম্পর্কেও। হয়ত কখন অজান্তে আবার কখনো শুধুমাত্র নিজেকে ভালো রাখার তাগিদে সম্পর্ককে গুরুত্ব দেওয়ার ইচ্ছেশক্তি আজ হয়ে পড়ছে অতীত।  আর সেই সম্পর্কের অতীত তল্লাশি করে মানুষের মনের সমস্যার সঠিক সন্ধানের বাসনায় অনায়াসে দিনরাত এক করে দেন এই প্রবাসী স্বনামধন্য নারী। একজন সাংবাদিক হিসাবে তিনি শুরু করেছিলেন তাঁর কেরিয়ার জীবন। পরবর্তী ক্ষেত্রে  কর্পোরেট জগতে তিনি পাবলিক রিলেশনের চাকরি করেন । ছোটবেলা থেকে ছিল লেখালেখির তাগিদ। তাই তিনি নিজের মনের ভাবনা প্রকাশ করতেন ব্লগ এবং আর্টিকেলের মাধ্যমে। পাশাপাশি তিনি একজন সাইকোলজিস্ট হিসাবে  মানুষের মনের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করতে করতে তাঁর লেখনি সত্তায়  হতে থাকে দোলাচল । আর এই দোলাচলের প্রভাবে তাঁর লেখনিতে প্রকাশিত হয় এক এক করে ১০তম বই। তার বইয়ের মাধ্যমে সমাজের নানান সম্পর্কের সমস্যা অসাধারণভাবে  মুগ্ধ করেছে পাঠকদের।  শুধু কি তাই বরাবরই এক্সপেরিমেন্ট বিশ্বাসী এই গুণী প্রতিভা একজন লেখিকার আবরণে সীমাবদ্ধ থাকেন নি। বরঞ্চ সমাজে বার্তা দিতে একজন পরিচালক হিসাবে গড়ে তুলেছেন এক অনন্য নজির। এই   সুলেখিকা, একাধারে সাইকোলজিস্ট আর অবশ্যই সুপরিচালক আর কেউ নন তিনি হলেন  অসামান্য প্রতিভাময়ী  শ্রীমতী পদ্মিনি দত্ত শর্মা। নিজের জীবনের অভিজ্ঞতার দেওয়ালে গড়ে তুলেছেন "নো মোর টিয়ার্স... রাইজ অ্যান্ড ফাইট", "ভ্রষ্টা -দ্যা স্টোলেন চাইল্ডহুড", "বুমেরাং" -এর মত অনবদ্য শর্ট ফিল্ম। তাঁর পরিচালিত স্বল্প দৈর্ঘ্যের ছবি দর্শকদের হৃদয়ের দোরগোড়ায় করেছে তোলপাড়। আর হবে নাই বা কেন? সমাজের না বলা বাস্তবকে কেন্দ্র করে তুলে ধরেছেন ছবির বিষয়বস্তু । যা অতি প্রাসঙ্গিক। তাঁর মতে,  তাঁর প্রথম প্রকাশিত 'স্পাইস আপ ইয়োর ম্যারেজ ' বইটির সফলতার পর তাঁর মনে একটি চিন্তা বারংবার উঁকি দিত যে শুধুমাত্র পুস্তকের আদলে নয় ,সিনেমার মাধ্যমে আরো মানুষের কাছে  পৌঁছে যেতে হবে যাতে প্রতিটি মানুষ নিজের সম্পর্কের গাঢ়তা সঠিক ভাবে নির্ণয় করুক। যাতে নিজের অন্দরের সত্তাকে প্রশ্ন করুক, বলা ভালো নিজেকে চিনতে শিখুক। তাই সিনেমার আদলে তৈরি করেন প্রথম পরিচালিত স্বল্প দৈর্ঘ্যের ছবি "নো মোর টিয়ার্স... রাইজ অ্যান্ড ফাইট"। যেখানে রয়েছে একটি মেয়ের অসহায়তার গল্প । ১৬ বছর বয়সী একটি মেয়ে লেখাপড়ায় ভালো হলেও বাধ সাধে তাঁর পরিবার। মেয়েটির হঠাৎ-ই বিয়ে ঠিক হয়  সম্পর্কে  কাকু হিসাবে পরিচিত তাঁর বাবার এক বন্ধু সাথে। কারণ  ছেলের ডাক্তারি পড়ার জন্য বন্ধুর কাছ থেকে প্রচুর টাকা নেন মেয়েটির বাবা। নিজের ছেলের ভবিষ্যত উজ্জ্বল করতে অনায়াসে নিজস্ব কন্যাসন্তাকে রীতিমত জলাঞ্জলি দেন মেয়েটির পরিবার। ঠিক এমনই সমাজের কলুষিত অধ্যায়কে গল্পের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেছেন এই পরিচালক । প্রথম ছবির অসামান্য সফলতার পর তিনি দ্বিতীয় ছবি "ভ্রষ্টা -দ্যা স্টোলেন চাইল্ডহুড"-এর মাধ্যমে তুলে ধরেন এক উচ্চাকাঙ্ক্ষী  মায়ের গল্প। মাত্র ১৮ মিনিটের এই ছবিতে দেখা যায় একজন মা নিজের বাস্তবায়িতহীন স্বপ্ন তুলে ধরতে চান তাঁর মেয়ের উপর। মেয়ের ইচ্ছে , চাহিদাকে অনায়াসে দূরে সরিয়ে শুধুমাত্র নিজস্ব চাহিদাকে প্রতিপন্ন করাকে গল্পের বুননে দর্শকদেরর সামনে হাজির করেন পরিচালক পদ্মিনি। একইসঙ্গে তাঁর তৃতীয় ছবি "বুমেরাং"-এর মাধ্যমে সমাজে বার্তা  দিয়েছেন তিনি।

সবশেষে বলাই যায়, একাধারে লেখনির মাধ্যমে অন্যদিকে ছবির আঙিনায় সমাজের সুপথ প্রদর্শকের একটাই নাম পদ্মিনি দত্ত শর্মা।

Comment