No icon

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতায় দূরে থাকুক করোনা !

-Mohua Chakraborty

কোভিড-১৯ যা করোনা ভাইরাস, যার আতঙ্কে রাতের ঘুম উড়েছে গোটা বিশ্বের। করোনা ঝড়ে প্রতিদিন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা। পরিসংখ্যান অনুযায়ী গোটা বিশ্বে এপর্যন্ত করোনার কারণে মৃত্যু হয়েছে ১৯ হাজার ৬৩৮ জনের। বর্তমানে মারাত্মক আকারে রূপ নিচ্ছে করোনা ভাইরাস। ১১৯ টি দেশের পাশাপাশি এদেশেও থাবা বসিয়েছে কোভিড-১৯।  

শ্বাসতন্ত্রের অন্যান্য অসুস্থতার মতো গলা ব্যথা, কাশি ,নাক দিয়ে জল পরার সমস্যা এবং জ্বরসহ হালকা এই ভাইরাসের প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে। কিছু মানুষের জন্য এই ভাইরাসের সংক্রমণ মারাত্মক হতে পারে। এর ফলে নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট এবং অর্গান বিপর্যয়ের মতো ঘটনাও ঘটতে পারে।খুব কম ক্ষেত্রেই এই রোগ মারাত্মক হয়। তবে, এই ভাইরাস সংক্রমণের ফলে বয়স্ক ও আগে থেকে অসুস্থ ব্যক্তিদের মারাত্মকভাবে অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

আগে থেকেই যাদের হৃদযন্ত্রের সমস্যা, ডায়াবেটিস, শ্বাসতন্ত্রের অসুখ কিংবা উচ্চ-রক্তচাপ রয়েছে তারা এই ভাইরাসে সহজেই সংক্রমিত হতে পারে। ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকলে করোনা ভাইরাসে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে৷ আর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো থাকলে ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ প্রতিহত করা যায়। তাই করোনা ভাইরাস রুখতে প্রয়োজন শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো। 

এবার জেনে নিন, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে কী কী খাবেন:

* কাঁচা হলুদ:

কাঁচা হলুদে থাকা কারকিউমিনের অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি ও অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট উপাদান বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ থেকে খাদ্যনালীকে বাঁচায়। আমরা রোজ যে খাবার খাই, তার মধ্যে অনেকসময়ই নানা জীবাণু থেকে যেতে পারে। তাই খালি পেটে কাঁচা হলুদ খেলে এবং খাবারে   ব্যবহার করলে তা খাদ্যনালীকে ক্ষতিকারক জীবাণুর সংক্রমণ থেকে বাঁচায় ও খাদ্যনালীর প্রদাহের সম্ভাবনা কমায়।

* ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার

ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার খান। যেমন- আপেল কমলালেবু, পেয়ারা, আঙ্গুর , কলা ,লেবু ইত্যাদি বেশি করে খান। এতে আছে ভিটামিন সি যা সর্দি, কাশি, জ্বরের ক্ষেত্রে খুবই উপকারি। শরীরের উপকারী শ্বেত রক্তকণিকা তৈরি করতে সাহায্য করে ভিটামিন সি। এছাড়া, যে কোনও সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়তে সাহায্য করে ভিটামিন সি।

* মিষ্টি কুমড়া

সবজি হিসেবে মিষ্টি কুমড়া সুপরিচিত ও খুবই পুষ্টিদায়ক ।এই সবজিটিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ স্বাস্থ্যউপকারিতা । মিষ্টি কুমড়া ভিটামিন এ, বি-কমপ্লেক্স, সি এবং ই          ,পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, আয়রন, জিঙ্ক, ফসফরাস, কপার, ক্যারটিনয়েড এবং অন্যান্য অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমূহের ধারক।মিষ্টি কুমড়া খেলে আপনার শরীরে রোগ ব্যাধির সংক্রমণ কমে যায়। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে মিষ্টি কুমড়া একটি অত্যন্ত উপকারি সবজি।

* মধু :

আয়ুর্বেদ  চিকিৎসা শাস্ত্রেও মধুকে বলা হয় মহৌষধ। অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ মধু। মধু শরীরের রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়ায়। শরীরের ভেতরে বাইরে কোনো রকম ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ থেকে প্রতিরোধ করে। অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান প্রতিরোধকারী শক্তি গড়ে তোলে, যে কোনো রকম সংক্রমণ থেকে দেহকে রক্ষা করে। তাই প্রতিদিন এক চা চামচ মধু খাওয়ার অভ্যাস করুন।

* তেতো

খাবার পাতে শুরুতেই নিমপাতা, উচ্ছে কিংবা করলা – এসবই ওষুধের পরিপূরক। তেতো খাওয়া খুবই ভাল। করলা বা উচ্ছে, কালমেঘ, চিরতা, নিম খেলে রক্ত পরিষ্কার হয়। হজমতন্ত্র তেতো অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল, অ্যান্টি ফাংগাল, অ্যান্টি ভাইরাল গুণসমৃদ্ধ। তবে শসা একটু তেতো হলে সমস্যা নেই, কিন্তু তেতো ধুঁধুল খাওয়া উচিত না, পেটে ব্যথা বা পেট খারাপ হতে পারে। তেতো লাউ খেলে মানুষের মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

* রসুন 

রসুনে আছে  অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা রক্তকে পরিশুদ্ধ রাখতে সাহায্য করে। রক্তে উপস্থিত শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে রসুন। ভাইরাস ও সংক্রমণজনিত অসুখ যেমন- ব্রংকাইটিস, নিউমোনিয়া, হাঁপানি, হুপিং কাফ ইত্যাদি প্রতিরোধে করে। তাই খাদ্যতালিকায় সঙ্গে রাখুন এক কোয়া রসুন।

* পেঁপে

নিয়মিত পেপে খেলে অথেরোস্ক্লেরোসিস এবং ডায়াবেটিক হৃদরোগ প্রতিরোধ করে। পেঁপের ভিটামিন এ,সি এবং ই সমূহের এবং শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্টস এর চমৎকার উৎস। এই তিনটি পুষ্টি কলেস্টেরল প্রতিরোধে সাহায্য করে, ফলে হার্ট এটাক ও স্ট্রোকের মাত্রা কমে । এছাড়া পেঁপে  ফাইবার এর একটি ভাল উৎস, যা উচ্চ কলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সহায়তা করে।

* টক দই

এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়| ঠাণ্ডা লাগা, সর্দি ও জ্বর না হওয়ার জন্য এটি ভালো কাজ করে। টক দইয়ের উপকারী ব্যাকটেরিয়া ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়াকে মেরে ফেলে এবং শরীরের উপকারী ব্যাকটেরিয়াকে বাড়িয়ে হজম শক্তি বাড়ায় বা ঠিক রাখে। উচ্চ রক্ত চাপ, ডায়বেটিস, হার্টের অসুখ এর রোগীরা নিয়মিত টক দই খেলে এসব অসুখ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন।

* আদা :

আয়ুর্বেদে সুস্থ থাকতে আদা খাওয়ার কথা বলা হয়েছে৷ আদায় আছে অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট যা শরীরের খারাপ কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে৷ ফলে হার্ট সুস্থ রাখতে অত্যন্ত উপকারি আদা৷

*পেঁয়াজ :

কার্মিনেটিভ, অ্যান্টিমাইক্রোবায়াল, অ্যান্টিসেপ্টিক এবং অ্যান্টিবায়োটিক জাতীয় পদার্থ মজুত রয়েছে। তাই শরীরে কোথাও সংক্রমণ ঘটে থাকলে কাঁচা পেঁয়াজ একটু বেশি খান, চটজলদি উপকার পাবেন। ঠান্ডা লাগার ফলে গলা ব্যথা, সর্দি-কাশি, জ্বর, অ্যালার্জি বা সামান্য গা ব্যথায় দারুণ কাজ করে পেঁয়াজ। 

* কালোজিরা

প্রাচীনকাল থেকে কালোজিরা মানবদেহের নানা রোগের প্রতিষেধক এবং প্রতিরোধক হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে। স্থুলতা, ক্যান্সার ও হৃদরোগ সব কিছুর বিরুদ্ধেই শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ কালোজিরা। সাধারণ সর্দি-কাশি, নাক বন্ধ, গলা ব্যথা, জ্বর, যেকোনো ধরনের শারীরিক দুর্বলতা কাটাতেও কালোজিরার জুড়ি নেই।

* ভিটামিন বি৬ সমৃদ্ধ খাবার :

ভিটামিন বি৬ আমাদের মেটাবলিজম বুস্ট করতে সহায়তা করে। ভিটামিন বি৬ সমৃদ্ধ খাবারগুলি হল, সবুজ শাকসবজি, দুধ ,ডিম, মাংস। যদিও যেকোন ধরনের শাকসবজি ,মাংস পুরোপুরি সেদ্ধ করে খাবেন। এই মুহূর্তে কাঁচা কিংবা অর্ধ সেদ্ধ করে খাবেন না।

আর সবশেষে, পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করুন।

সুস্থ থাকুন ! সতর্ক থাকুন !

Comment