No icon

APSARA GUHA THAKURTA

নৃত্যের তালে মোহময়ী অপ্সরা

সৌন্দর্য জগতে তিনি আগে থেকেই সুন্দরী খেতাবে অধিকারী। ২০১৯ সালে মিসেস উমেন অফ দ্যা ইউনিভার্স -এর, দ্বিতীয় রানার্স আপ হয়ে  বিশ্বের দরবারে নিজের দেশকে সম্মানিত করেছেন এই বঙ্গ ললনা।  শুধু কি তাই এই গুণী প্রতিভা নৃত্যের পরিসরে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। তিনি একসময় শিক্ষাকতায় যুক্ত ছিলেন । অন্যদিকে সাংসারিক বৃত্তে তিনি একজন সুগৃহিনী । আর এই সর্বগুণসম্পন্না  আর কেউ নন তিনি হলেন অপ্সরা গুহ ঠাকুরতা। পায়ের ছন্দে মুগ্ধ করতে  'গন্ধর্বলোক কলাকেন্দ্রে'র ৪০তম বার্ষিক অনুষ্ঠানে রয়েছে  এই প্রতিভাময়ী নারীর নৃত্য পরিবেশন। একদিকে বিউটি প্যাজেন্ট খেতাব জয়ের অধিকারী অন্যদিকে নৃত্যের নৈপুন্যতায় এই গুণী লালনার নেই তুলনা। একান্ত সাক্ষাৎকারে জেনে নেওয়া যাক অপ্সরা গুহ ঠাকুরতা-র কিছু না বলা অধ্যায়। 

★ ডান্স নিয়ে শুরুটা কিভাবে?

- তিন বছর বয়স থেকেই আমার ডান্সের প্রতি শখ । বাড়িতে যখন গানবাজনা চলতো তখন আমি নিজের মত নাচ করতাম । আর সেই দেখে আমার বাবা-মার  মনে হয়েছিল  নাচটা আমি ভালো পারব । তারপর  নাচের স্কুলে ভর্তি হওয়া এবং সেই থেকেই নাচের জগতে প্রবেশ। 

★ নাচের কোন কোন ফর্ম তুমি শিখেছ ?

-  ভরতনাট্যম দিয়েই আমার প্রথম নাচ শেখা শুরু। এরপর মাস্টার্স করেছি ওড়িশি ডান্স নিয়ে ।  পরবর্তীকালে আমি ফ্রিস্টাইল ইন্ডিয়ান বলে একটা ফর্ম  করাতাম আমার ক্লাসে । ক্লাসিক্যালকে একটু ফিউজন করে নতুন ভাবে প্রস্তুত করতাম । আসলে আজকালকার বাচ্চা এবং বাবা-মায়েদের মধ্যে একটা ট্রেন্ড এসেছে যে হিপহপ ,বলিউড, সালসা ডান্স, জুম্বা শেখার। ক্লাসিক্যাল ডান্সের বোধহয় কোথাও যেন গুরুত্বটা হারিয়ে যাচ্ছে। তাই সেই গুরুত্ব বজায় রাখতে এবং একইসঙ্গে যাতে বাচ্চাদের যেন একঘেয়ে না লাগে সেজন্যই  এই ফ্রিস্টাইল ফর্ম  । বাচ্চারাও সেটা খুব এনজয় করত। 

★  কার কার কাছে তুমি ডান্স শিখেছ ?

- আমি আজ যা কিছু শিখেছি গুরুদের অবদানের জন্যই। আমি ভরতনাট্যম  শিখেছি গুরু মধুবনী চ্যাটার্জীর কাছে। পরবর্তীক্ষেত্রে ওড়িশি ডান্স শিখেছি গুরু গীতালি বসু আইচ এবং একইসঙ্গে  পন্ডিত শ্যামল মহারাজের কাছে কত্থক শিখেছি। পাশাপাশি তিনবছর  'আনন্দ শঙ্কর সেন্টার ফর পারফর্মিং আর্টস’ থেকে আমি নৃত্যের প্রশিক্ষণ নিয়েছি।

★ দিনে কত ঘন্টা প্র্যাকটিস কর ?

- আগে নিয়মিত প্র্যাকটিস করতাম। কিন্তু এখন সময়ের অভাবে সপ্তাহে তিন-চার ঘণ্টা প্র্যাকটিস করা হয়। তবে যখন প্রোগ্রাম থাকে তখন প্রতিদিন প্র্যাকটিস করি। 

★ ডান্স নিয়ে কি তুমি ওয়ার্কশপ কর ?

- হ্যাঁ , আমি প্রচুর ওয়ার্কশপ করি। যখন স্কুলে পড়াতম তখন সেখানে ফুল ফেজেড ডান্স টিচার ছিলাম। অ্যানুয়াল কনসার্ট, ইন্টারস্কুল ডান্স কম্পিটিশন করানোর সময় কোরিওগ্রাফিও করতাম। এছাড়াও  আমার  নিজস্ব 'অপ্সরা ডান্স  অ্যাকাডেমি' নামে একটি  ডান্স ইনস্টিটিউট আছে। যেখানে প্রচুর ছাত্রছাত্রীদের আমি ডান্স শেখাতাম। এখন যদিও  ইনস্টিটিউটি নতুনভাবে সাজানোর প্রক্রিয়া চলছে তাই সাময়িক বন্ধ রয়েছে।

★ সিনেমায় কোরিওগ্রাফি করার কোন অফার পেয়েছ ?

- না,কোরিওগ্রাফি করার কোন অফার পায়নি। তবে, ডান্স রিলেটেড মিউজিক ভিডিও-র অফার এসেছে। এখনই সে ব্যাপারে কিছু রিভিল করছি না, খুব শীঘ্রই জানাব।

★ তোমার কি মনে হয় এখন পাশ্চাত্য ডান্সের  প্রতি আগ্রহ কেন বাড়ছে ?

- আমার মনে হয় নিজের দেশের ঐতিহ্যকে কখন ভুলে যাওয়া  ঠিক নয়। আমার  যেহেতু 

ট্রেন্ড ইন্ডিয়ান ক্লাসিক্যাল ডান্সের তাই আমি খুব সহজেই যেকোন ধরনের ডান্স করতে পারি। হিপহপ,সালসা এই ধরণের ডান্স খুবই ভালো । তবে  ঐতিহ্যকে বজায় রেখে সব ডান্সই করা ভালো।

★ গন্ধর্বলোক কলাকেন্দ্রে ডান্স করছ, সেখানে কি ধরণের  থিমে পারফরমেন্স করবে ?

-   বসন্ত আসছে তাই আমার খুব প্রিয় ওড়িশি ডান্স বসন্ত পল্লবীর উপর থাকছে আমার  পারফরমেন্স ।  এটা একটি সুমধুর নাচের ছন্দ।একইসঙ্গে রয়েছে বলিউড ডান্সও।

★ কতটা এক্সাইটেট ?

- অনেকদিন পর স্টেজ শো করছি তাই ভীষণ এক্সাইটেট। আসলে গুরু গীতালি বসু আইচ ম্যামের কাছে আমি বিগত ১৬বছর ধরে  নাচ শিখেছি। উনি আমার খুব ক্লোজড। পন্ডিত শ্যামল মহারাজজিও আমাকে খুবই ভালোবাসেন। আমি যখন  ইন্টারন্যাশনাল প্যাজেন্ট মিসেস উমেন অফ দ্যা ইউনিভার্স-এ ইন্ডিয়াকে  রিপ্রেজেন্ট করেছিলাম তখন সেখানে আমি একটা সেমিক্লাসিক্যাল ডান্স করেছিলাম । সেটা জেনে ওনারা খুব খুশি হন এবং আমাকে আরো এনকারেজ করেন। একইসঙ্গে এই অ্যানুয়াল কনসার্ট-এ ডান্স করার অনুপ্রেরণা শুধুমাত্র তাঁদের জন্যই। আমার কাছে এটা  নস্টালজিয়া ব্যাপার।

★ কোন স্মরণীয় ঘটনা যেটা তুমি শেয়ার করতে চাও ?

- স্মরণীয় ঘটনাতো অনেক কাছে। তবে এই মুহূর্তে মনে পড়ছে আনন্দ শঙ্কর সেন্টার ফর পারফর্মিং আর্টস-এ ডান্স শেখার সময় তনুশ্রী ম্যাম( শংকর)-এর সান্নিধ্যে আমি কিছুদিন ক্লাস করার সুযোগ পেয়েছিলাম। এমনকি আনদা মানে আনন্দশঙ্কর স্যার, আমরা তাঁকে আনদা বলতাম তাঁকে স্বচক্ষে দেখার সৌভাগ্য হয়েছিল। ওনার এবং তনুশ্রী ম্যামের কাছ থেকে অনেক ডান্স মুভমেন্ট শিখেছি । সেটা অবশ্যই আমার জীবনের বড় পাওনা। 

আরোকটা স্মরণীয় মুহূর্তের মধ্যে অন্যতম হল , একদিন ক্লাসে সবাইকে আলাদা করে  নিজের মত কিছু ডান্স মুভমেন্ট করতে বলা হয়েছিল । আমি তখন খুবই ছোট,ক্লাস ৩-৪ পড়ি। সেইসময় আমি একটা নিজের মত মুভমেন্ট করেছিলাম। তখন তনুশ্রী ম্যাম হাততালি দিয়ে এনকারেজ করেন এবং সেটা ক্লাসে বাকিদের  শেখানো হয়েছিল। 

★ ভবিষ্যতে ডান্স নিয়ে কি  ভাবনা তোমার ?

- ডান্স নিয়ে আলাদা করে কোন চিন্তা নেই কারণ এখন এটা  আমার লাইভ স্টাইল হয়ে গেছে। আমাকে সবাই চেনে একজন প্রফেশনাল ডান্সার হিসাবে। সেটাই আমার প্রথম পরিচয়।  আমি  আমার অপ্সরা ডান্স  অ্যাকাডেমিটাকে আবার নতুনভাবে শুরু করতে চাই। এছাড়া  শো করব।একইসঙ্গে কিছু মিউজিক ভিডিও-র কথা চলছে। আপাতত এইসব নিয়ে ভাবনা চলছে।

★ নতুন বছরে তোমার কি কি রেজোলিউশন ?

-  প্রত্যেক বছরই কিছু না কিছু  রেজোলিউশন নিয়ে থাকি । যদিও আমি খুব একটা  রেজোলিউশন বিশ্বাস করি না আর তেমন মানা হয় না। তবে মিসেস ইন্ডিয়া, মিসেস উমেন অফ দ্যা ইউনিভার্স -এর  আগে থেকেই আমি কিছু সামাজিক কাজ করে চলেছি। প্রত্যেক বছর  মূলত এটাই আমার  রেজোলিউশন। তাই বহুদিন ধরে আমি কিছু এনজিওর বাচ্চাদের নাচ শেখাই, স্টেজ শো করাই। এখন 'তিলজলা শেড' নামক সোশ্যাল অর্গানাইজেশনের সঙ্গে যুক্ত। সেখানে বাচ্চাদের এডুকেশন নিয়ে, কালচারাল অ্যাক্টিভিটি নিয়ে ব্যস্ত থাকি। ওদেরকে  আরো কিছুভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায় সেই নিয়ে কিছু প্যান করেছি আপাতত সেটাই করার ইচ্ছে আছে। 

সবশেষে বলাই যায় , শুধু সুন্দরী মহলে নয় নৃত্যের মাধ্যমে সামাজিক দায়িত্ববোধের এক অন্যতম দৃষ্টান্তপ্রদানকারী অপ্সরা গুহ ঠাকুরতা।

★24×7 taazasamachar -এর সকল পাঠকদের জানানো হচ্ছে যে, অপ্সরা গুহ ঠাকুরতার এই একান্ত সাক্ষাৎকারটি নেওয়া হয়েছিল ১১ই জানুয়ারি কলকাতার ঢাকুরিয়ায় অবস্থিত অবন মহলে তাঁর ডান্স পারফরমেন্সের আগে। পরবর্তী সূচিতে থাকছে অপ্সরা গুহ ঠাকুরতার অসাধারন নৃত্য পরিবেশনের কিছু ঝলক।

Comment