No icon

ময়মনসিংহ পরিচিতি

বাংলাদেশের ময়মনসিংহ বিভাগের পরিচিতি

-------------------------------------------------------------

১৯৪৭ সালে ১৪ আগষ্ট দ্বি-জাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে পাকিস্তান-ভারত বিভক্তির পর পাকিস্তানের সঙ্গে পূর্ব বাংলা তথা আজকের বাংলাদেশ যুক্ত হয়। পরবর্তীতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর নেতৃত্বে নয়মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করে ১৯৭১ সালের ১৬ডিসেম্বর। বাংলাদেশের আটটি প্রশাসনিক বিভাগ রয়েছে তার মধ্যে ময়মনসিংহ সর্বশেষ বিভাগ হিসেবে স্বীকৃতি পায়।ময়মনসিংহের ঐতিহ্য-সংস্কৃতির এক গৌরব গাঁথা ইতিহাস রয়েছে।  বর্তমান সময়ে শিক্ষা-সংস্কৃতির নগরী হিসেবে খ্যাত এই বিভাগটির সংক্ষিপ্ত পরিচিতি ধারাবাহিক ভাবে বর্ণিত হয়েছে।

'ময়মনসিংহ ' নামের নামকরণের ইতিহাসঃ

---------------------------------------------------------

ময়মনসিংহ নামটি 'মমিনসাহীর' পরিবর্ত্তিত সংস্করণ। কথিত আছে দিল্লীশ্বর আকবর সাহেবের সময়ে মমিনসাহ নামে কোন ব্যক্তি সরকার বাজুহার একাংশের অধীশ্বর ছিলেন। সেই মমিনসাহ হইতে তদীয় অধিকৃত মহালের নাম মমিনসাহী হইয়া ছিল। আইন-ই-আকবর-ই গ্রন্থে মমিনসাহী মহালের নাম দেখা যায়। এই মমিনসাহীর "সাহী" শব্দই লিপি বিড়ম্বনায় অষ্টাদশ শতাব্দীতে "সিংহ" রূপ ধারণ করিয়া ক্রমে বর্তমানে একেবারে 'ময়মনসিংহে' পরিণত হইয়াছে। ময়মনসিংহ রাজস্বে এ জেলার সর্ব্ব প্রধান পরগণা। পরগণা মমিনসাহী বা মৈমনসিংহের গবর্ণমেন্ট রাজস্ব সর্ব্বাপেক্ষা অধিক বলিয়া এই জেলা "ময়মনসিংহ " নামে অভিহিত হইয়াছে। (তথ্যসূত্রঃ ময়মনসিংহের ইতিহাস ও ময়মনসিংহের বিবরণ, কেদারনাথ মজুমদার)। 

এসব বিবেচনায় বলা যায় সম্রাট আকবরের রাজত্বকালের পূর্ব থেকেই ময়মনসিংহ নামটি প্রচলিত ছিলো। ব্রিটিশ আমলে জেলা পত্তন কালে ময়মনসিংহ অঞ্চলের সমৃদ্ধ জমিদারগণ সরকারের কাছে জেলার নাম 'ময়মনসিংহ' রাখার আবেদন করলে সরকার তা গ্রহণ করে নেন। আবার অনেকে মনে করেন, ময়মনসিংহ নামকরণ করা হয় সম্রাট আকবরের প্রধান সেনাপতি মান সিংহের নামানুসারে।  সেনাপতি মান সিংহকে সম্রাট আকবর এ অঞ্চলের পাঠান বার ভূঁইয়ার প্রধান ঈশা খাঁ কে পরাজিত করার জন্য। সেনাপতি মান সিংহ ময়মনসিংহে ঘাঁটি স্থাপন করে। পরবর্তীতে ঈশা খাঁর কাছে মান সিংহ পরাজিত হয়। তবে এই স্থানের ইংরেজি নাম- MYMENSING দেখে এই অঞ্চলের মানুষ সম্পর্কে কিছু ধারণা পাওয়া যায়। 

My- আমার, Men-মানুষেরা,  Sing- গান করে। এই অঞ্চলের মানুষ সাংস্কৃতিক অঙ্গনে খুব ভালো ছিল। তাই ইংরেজরা এই ভাবে নামকরণ করেন।

ময়মনসিংহ বিভাগের পটভূমি 

----------------------------------------

ময়মনসিংহ বিভাগ বাংলাদেশের অষ্টম প্রশাসনিক বিভাগ। জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোণা জেলা নিয়ে ময়মনসিংহ বিভাগ গঠিত। ১৮২৯ সালে ঢাকা বিভাগ প্রতিষ্ঠার সময় থেকে ২০১৫ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চল ঢাকা বিভাগের অংশ ছিল। ২০১৫ সালের ১২ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে ঢাকা বিভাগ ভেঙ্গে নতুন ময়মনসিংহ বিভাগ গঠনের ঘোষণা দেন। শুরুতে ঢাকা বিভাগের উত্তর অংশ থেকে প্রতিবেশী ৮টি জেলা নিয়ে পরে ৬টি জেলা নিয়ে ময়মনসিংহ বিভাগ গঠনের পরিকল্পনা করা হয়।

এসময় টাঙ্গাইল ও কিশোরগঞ্জবাসী, ময়মনসিংহ বিভাগের অন্তর্ভুক্ত হতে অনীহা ও বিরোধিতা করে এবং ঢাকা বিভাগের অন্তর্ভুক্ত থাকতেই ইচ্ছাপোষণ করে। অবশেষে ২০১৫ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর ৪টি জেলা নিয়ে ময়মনসিংহ বিভাগ গঠিত হয়। এ বিভাগের এর আয়তন ১০,৪৮৫ বর্গকিলোমিটার ও জনসংখ্যা ১,১৩,৭০,০০০ জন। 

ময়মনসিংহ জেলার ভৌগোলিক সীমানা 

-------------------------------------------------------

ময়মনসিংহ জেলার উত্তরে ভারতের মেঘালয় রাজ্য, দক্ষিণে গাজীপুর জেলা, পূর্বে নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জ জেলা এবং পশ্চিমে শেরপুর, জামালপুর ও টাঙ্গাইল জেলা অবস্থিত।

কেন বিখ্যাত

-----------------

ময়মনসিংহ জেলা মৈমনসিংহ গীতিকা, মহুয়া, মলুয়া, দেওয়ানা মদীনা, চন্দ্রাবতী, কবিকঙ্ক, দীনেশচন্দ্র সেন এবং মুক্তাগাছার মন্ডার জন্য বিখ্যাত।

ময়মনসিংহ বিভাগের নদ-নদীঃ

------------------------------------------

ময়মনসিংহ জেলায় অনেকগুলো নদী আছে। সেগুলো হচ্ছে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদী, কাঁচামাটিয়া নদী, মঘা নদী, সোয়াইন নদী, বানার নদী, বাইলান নদী, দইনা নদী, পাগারিয়া নদী, সুতিয়া নদী, কাওরাইদ নদী, সুরিয়া নদী, মগড়া নদী, বাথাইল নদী, নরসুন্দা নদী, নিতাই নদী, কংস নদী, খাড়িয়া নদী, দেয়ার নদী, ভোগাই নদী, বান্দসা নদী, মালিজি নদী, ধলাই নদী, কাকুড়িয়া নদী, দেওর নদী, বাজান নদী, নাগেশ্বরী নদী, আখিলা নদী, মিয়াবুয়া নদী, কাতামদারী নদী, সিরখালি নদী, খিরু নদী, বাজুয়া নদী, লালতি নদী, চোরখাই নদী, বাড়েরা নদী, হিংরাজানি নদী, আয়মন নদী, দেওরা নদী, থাডোকুড়া নদী, মেদুয়ারি নদী, জলগভা নদী, মাহারী নদী।

ময়মনসিংহ বিভাগের দর্শনীয় স্থানঃ

------------------------------------------------

ময়মনসিংহঃ

ময়মনসিংহশশী লজ, গৌরীপুর লজ, আলেকজান্ডার ক্যাসেল, শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন সংগ্রহশালা, স্বাধীনতাস্তম্ভ, ব্রহ্মপুত্র নদের তীরবর্তী পার্ক, ময়মনসিংহ জাদুঘর, বোটানিক্যাল গার্ডেন, নজরুল স্মৃতি কেন্দ্র, মুক্তাগাছা জমিদারবাড়ি, মহারাজ সূর্যকান্তের বাড়ি, গৌরীপুর রাজবাড়ি, বীরাঙ্গনা সখিনার মাজার, রামগোপাল জমিদারবাড়ি, ফুলবাড়িয়া অর্কিড বাগান, চীনা মাটির টিলা, আবদুল জববার স্মৃতি জাদুঘর, কুমিরের খামার, তেপান্তর ফিল্ম সিটি।

জামালপুরঃ

হজরত শাহ জামালের (রহ.) মাজার, হজরত শাহ কামালের (রহ.) মাজার, পাঁচ গম্বুজবিশিষ্ট রসপাল জামে মসজিদ (উনবিংশ শতাব্দী), নরপাড়া দুর্গ (ষোড়শ শতাব্দী), গান্ধী আশ্রম, দয়াময়ী মন্দির, দেওয়ানগঞ্জের সুগার মিলস, লাউচাপড়া পিকনিক স্পট।

নেত্রকোনাঃ

উপজাতীয় কালচারাল একাডেমী, বিজয়পুর পাহাড়ে চিনামাটির নৈসর্গিক দৃশ্য, রানীখং মিশন, টংক শহীদ স্মৃতিসৌধ, রানীমাতা রাশমণি স্মৃতিসৌধ, কমলা রানী দীঘির ইতিহাস, নইদ্যা ঠাকুরের (নদের চাঁদ) লোক-কাহিনী, সাত শহীদের মাজার, হজরত শাহ সুলতান কমরউদ্দিন রুমির (রহ.) মাজার, রোয়াইলবাড়ি কেন্দুয়া।

শেরপুরঃ

গড় জরিপার দুর্গ , দরবেশ জরিপ শাহের মাজার, বারদুয়ারী মসজিদ, হযরত শাহ কামালের মাজার, শের আলী গাজীর মাজার, কসবার মুগল মসজিদ, ঘাঘরা লস্কর বাড়ী মসজিদ, মাইসাহেবা মসজিদ, নয়আনী জমিদারের নাট মন্দির, আড়াই আনী জমিদার বাড়ি, পৌনে তিন আনী জমিদার বাড়ি, গজনী অবকাশ কেন্দ্র।

Comment